আমাদের কথা
ঘটনার পরের গল্পটা যেন হারিয়ে না যায়
অনুদিত কী
অনুদিত বাংলাদেশের সেই ঘটনাগুলোর একটি উন্মুক্ত আর্কাইভ, যেগুলো এক সময় দেশজুড়ে আলোড়ন তুলেছিল — আর সেগুলোর পরিণতির। কারখানায় আগুন, লঞ্চডুবি, একটি হত্যাকাণ্ড, একটি আন্দোলন — সবই এক সময় শিরোনাম হয়েছিল। কিন্তু তারপর কী হলো — মামলা কোথায় গেল, কারও দণ্ড হলো কি না, ক্ষতিপূরণ মিলল কি না — সে খবর অনেক সময় আর শিরোনামে আসে না।
আর্কাইভটি সাজানো হয়েছে বছরের দিন ধরে। প্রতিটি দিনে দেখানো হয় আগের বছরগুলোর সেই তারিখে কী ঘটেছিল, আর প্রতিটি ঘটনার পাশে থাকে তার সর্বশেষ যাচাই করা অবস্থা — বিচার মিলেছে, তদন্ত থমকে আছে, কিংবা কোনো জবাবদিহি হয়নি।
এটি লেখা হয়েছে সেই পাঠকের জন্য, যিনি জানতে চান ঘটনার পর শেষ পর্যন্ত কী হলো; সাংবাদিকের জন্য, যাঁর বার্ষিকী প্রতিবেদনে পুরোনো সূত্র দরকার; গবেষক ও আইনজীবীর জন্য, যাঁদের একটি মামলার ধারাবাহিক ইতিহাস এক জায়গায় লাগে; আর সেই পরিবারগুলোর জন্য, যাঁদের কাছে ঘটনাটি কখনো পুরোনো খবর হয়নি।
নামের মানে
‘অনুদিত’ শব্দটি চোখে পড়লে প্রথমে ‘অনূদিত’ বলেই পড়তে ইচ্ছে করে — যা অনুবাদ করা হয়েছে। আর্কাইভটি দুই ভাষায় লেখা, তাই সেই পাঠও মিথ্যা নয়। কিন্তু শব্দটিকে ভাঙলে — অন্ + উদিত — মানে দাঁড়ায় ‘যা উদিত হয়নি’: যে সূর্য এখনো ওঠেনি, যে কথা এখনো বলা হয়নি।
একটি ঘটনার পরের অধ্যায় প্রায়ই সেই না-বলা কথা। রায় হয় নিঃশব্দে, তদন্ত থেমে যায় কোনো ঘোষণা ছাড়া, ক্ষতিপূরণের প্রতিশ্রুতি হারিয়ে যায় ফাইলের ভেতরে। এই আর্কাইভের কাজ সেই অনুদিত পরিণতিগুলোকে দৃষ্টির সামনে তুলে আনা — যা ওঠেনি, তাকে ওঠানো।
একটি নথি কীভাবে তৈরি হয়
প্রতিটি নথির শুরু একটি এআই গবেষণা মডেলের কাজ থেকে। মডেলটি প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন খুঁজে বের করে, আর তার ভিত্তিতে ঘটনার বিবরণ, ঘটনাপ্রবাহ ও একটি অবস্থা খসড়া করে — প্রতিটি দাবির পাশে যে সূত্র তাকে সমর্থন করে, তার উদ্ধৃতিসহ।
কোনো নথি প্রথমবার প্রকাশিত হয় একজন সম্পাদক অনুমোদন দেওয়ার পরই। প্রতিটি অবস্থাও প্রকাশিত হয় সম্পাদকের অনুমোদনের পর; যে অবস্থার পেছনে কোনো সূত্রের উদ্ধৃতি নেই, তা অনুমোদন করার উপায়ই নেই — ব্যবস্থাটি সেভাবেই তৈরি। তবে যে নথি আগেই প্রকাশিত হয়েছে, তার ঘটনাপ্রবাহ ও সূত্রের তালিকা গবেষণা মডেল ঘটনাটি নিয়ে আবার অনুসন্ধান চালালে — প্রতি বছর ঘটনার তারিখের কাছাকাছি সময়ে, কিংবা সম্পাদক চাইলে — স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন করে লেখা হয়; এই হালনাগাদ সম্পাদকের অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকে না।
নতুন তথ্য এলে আগের প্রকাশিত অবস্থা-নির্ধারণ মুছে ফেলা হয় না; নতুন একটি নির্ধারণ যুক্ত হয়, পুরোনোটি তার পাশেই থেকে যায়। ফলে থমকে থাকা কোনো মামলা যেদিন রায়ে পৌঁছায়, সেই পরিবর্তন আর্কাইভেই ধরা পড়ে, আর ‘কী বদলাল’ পাতায় তা দেখা যায়। কেবল ভুল করে প্রকাশিত নির্ধারণই সম্পাদক প্রত্যাহার করতে পারেন।
সাতটি অবস্থা
সম্পাদক অনুমোদন দেওয়ার পর প্রতিটি প্রকাশিত ঘটনার পাশে সাতটি অবস্থার একটি থাকে; তার আগে পাতায় লেখা থাকে যে অবস্থা এখনো নির্ধারিত হয়নি। সংজ্ঞাগুলো নিচে দেওয়া হলো। মডেলকেও এই মাপকাঠিতেই অবস্থা বেছে নিতে বলা হয় — পাঠক যে মাপকাঠিতে পড়ছেন, নথিও ঠিক সেই মাপকাঠিতেই তৈরি।
- বিচার মিলেছে
- চূড়ান্ত দণ্ড হয়েছে, ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে, কিংবা মূল দাবি পূরণ হয়েছে।
- নীতি বদলেছে
- কোনো ব্যক্তিকে জবাবদিহির আওতায় আনা হয়নি, তবে ঘটনার জেরে আইন বা চর্চা বদলেছে।
- বিচার চলমান
- অভিযোগপত্র দাখিল হয়েছে এবং মামলা সক্রিয়ভাবে এগোচ্ছে।
- অমীমাংসিত
- বিষয়টি নিয়ে এখনো প্রকাশ্য আলোচনা বা তৎপরতা চলছে, কিন্তু কোনো দিকেই নিষ্পত্তি হয়নি।
- তদন্ত থমকে আছে
- তদন্ত শুরু হয়েছিল, কিন্তু বারবার পিছিয়েছে বা দীর্ঘদিন কোনো অগ্রগতি নেই।
- কোনো জবাবদিহি নেই
- মামলা বন্ধ, খালাস বা পরিত্যক্ত — কাউকে কোনো পরিণতি ভোগ করতে হয়নি। খালাস মানে আদালত অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করেননি।
- অজানা
- প্রকাশিত সূত্র থেকে নির্ভরযোগ্যভাবে কোনো অবস্থা নির্ধারণ করা যায়নি।
সাতটি অবস্থা পাঁচটি রঙের দলে ভাগ করা হয়েছে: “বিচার মিলেছে” ও “নীতি বদলেছে” একসঙ্গে নিষ্পত্তি; “অমীমাংসিত” ও “অজানা” একসঙ্গে অস্পষ্ট।
নিশ্চয়তা ও তারিখ
প্রতিটি অবস্থার সঙ্গে লেখা থাকে ‘সূত্রের সমর্থন’ — জোরালো, মাঝারি বা সীমিত। এটি ঘটনাটি ঘটেছিল কি না তার মাপ নয়; উদ্ধৃত সূত্রগুলো ওই নির্দিষ্ট অবস্থাকে কতটা সরাসরি প্রতিষ্ঠিত করে, তার মাপ। উদ্ধৃত প্রতিবেদনেই রায়ের খবর থাকলে সমর্থন জোরালো; কেবল পরোক্ষ ইঙ্গিত থাকলে সীমিত।
- সূত্রের সমর্থন: জোরালো
- ৮৫ শতাংশ বা তার বেশি
- সূত্রের সমর্থন: মাঝারি
- ৬০ থেকে ৮৪ শতাংশ
- সূত্রের সমর্থন: সীমিত
- ৬০ শতাংশের নিচে
প্রতিটি নথিতে দুটি তারিখ থাকে, আর দুটির মানে আলাদা।
- সর্বশেষ সূত্র
- উদ্ধৃত সূত্রগুলো সবচেয়ে সাম্প্রতিক যে তারিখের কথা বলে, সেটি। আর্কাইভ শেষ কবে খোঁজ নিয়েছে, তা নয় — কোনো মামলার খবর ২০১৯ সালের পর আর না বেরোলে এখানে ২০১৯-ই থাকবে।
- যাচাইয়ের তারিখ
- যেদিন একজন সম্পাদক নির্ধারণটি যাচাই করে প্রকাশের অনুমোদন দিয়েছেন।
সূত্র
অনুদিত কোনো প্রতিবেদনের পূর্ণ পাঠ সংরক্ষণ করে না। প্রতিটি সূত্রের জন্য রাখা হয় শুধু শিরোনাম, প্রকাশকের নাম আর মূল লিংক। লেখাটি প্রকাশকের, প্রকাশকের কাছেই থাকে।
লিংক নষ্ট হয়। পুরোনো প্রতিবেদন সরে যায়, ঠিকানা বদলায়, কোনো কোনো পত্রিকা বন্ধ হয়ে যায়। কোনো লিংক কাজ না করলে সূত্রের পাশের ‘সংরক্ষিত কপি খুঁজুন’ লিংক থেকে ইন্টারনেট আর্কাইভে তার একটি কপি খোঁজা যায়।
আমাদের অনুরোধ, সূত্রগুলো নিজে পড়ুন। এখানকার সারসংক্ষেপ পাঠকের সময় বাঁচানোর জন্য, মূল প্রতিবেদনের জায়গা নেওয়ার জন্য নয়।
ছবি
অধিকাংশ ঘটনার এমন কোনো আলোকচিত্র নেই, যা আইনসম্মতভাবে প্রকাশ করা যায়। পত্রিকার ছবির স্বত্ব পত্রিকার; সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা ছবির স্বত্ব যিনি তুলেছেন তাঁর। অনুমতি ছাড়া সেগুলো ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত আমাদের।
তাই কোনো নথিতে ছবি থাকে কেবল তখনই, যখন আইনসম্মতভাবে দেখানো যায় এমন একটি ছবি পাওয়া গেছে। ছবি না থাকলে নথিতে থাকে শুধু লেখা — ছবির জায়গায় অন্য কোনো চিত্র বসানো হয় না।
যে নথিতে ছবি আছে, তার পাতায় ছবির নিচেই দেওয়া থাকে কৃতজ্ঞতা স্বীকার ও লাইসেন্স, আর ছবির সূত্রের লিংক থাকলে সেটিও। আঁকা ছবি, কম্পিউটারে তৈরি চিত্র কিংবা আলোকচিত্র থেকে বানানো রেখাচিত্রের ওপরেই লেখা থাকে ‘অলংকরণ’। ঘটনার আলোকচিত্র আর ঘটনার আঁকা ছবি — এই পার্থক্য এমন একটি আর্কাইভে কখনো অস্পষ্ট থাকতে পারে না।
গোপনীয়তা
এই সাইট খুললে আপনার ব্রাউজার থেকে কোনো তৃতীয় পক্ষের সার্ভারে কোনো অনুরোধ যায় না, যতক্ষণ না আপনি নিজে চান। ভিডিও বা সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট একটি বোতামের পেছনে থাকে; বোতামে চাপলে তবেই প্রকাশকের সার্ভার থেকে তা আসে।
কোনো ট্র্যাকার নেই, কোনো বিশ্লেষণ স্ক্রিপ্ট নেই, কোনো বিজ্ঞাপন নেই। হরফগুলোও আসে এই সাইটের নিজস্ব সার্ভার থেকে, বাইরের কোনো সেবা থেকে নয়। পড়ার জন্য কোনো অ্যাকাউন্ট লাগে না।
ভাষা ও থিমের পছন্দ মনে রাখার জন্য আপনার ব্রাউজারে একটি সেটিং রাখা হয়; তাতে আপনাকে শনাক্ত করার কিছু নেই।
ভুল জানান
ভুল চোখে পড়লে জানান। প্রতিটি নথির নিচে ‘এই নথিতে ভুল জানান’ লিংক আছে, যা ওই নথির ঠিকানাসহ একটি ইমেইল তৈরি করে দেয়। সাধারণভাবে কিছু বলতে চাইলে নিচের ঠিকানায় ইমেইল করুন, বা আমাদের ফেসবুক পেজে বার্তা পাঠান। সম্ভব হলে সঠিক তথ্যের একটি সূত্র — একটি লিংক — সঙ্গে দিন; সূত্র থাকলে সংশোধন দ্রুত হয়।
যাচাই করা সংশোধন নথিতেই করা হয়, আর নথির শিরোনামের ওপরে হালনাগাদের তারিখ দেখানো হয়। অবস্থা বদলালে আগের নির্ধারণ মুছে যায় না — অবস্থার ইতিহাসে আগে কী প্রকাশিত হয়েছিল, কবে হয়েছিল, তা আগের মতোই দেখা যায়।
আমরা কারা
অনুদিত একটি স্বাধীন, অবাণিজ্যিক, জনস্বার্থের প্রকল্প। এটি চালায় বাংলাদেশের একটি ছোট সম্পাদকীয় দল।
প্রকল্পটি কোনো রাজনৈতিক দল, সরকার বা সংবাদমাধ্যম গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত নয়। এখানে কোনো বিজ্ঞাপন নেই, কোনো তথ্য বিক্রি হয় না।
আর্কাইভের প্রতিটি দাবি দাঁড়িয়ে আছে সেই সাংবাদিকদের কাজের ওপর, যাঁরা খবরটি প্রথম প্রকাশ করেছিলেন আর যাঁরা বছরের পর বছর তার পেছনে লেগে ছিলেন। প্রতিটি সূত্র নাম ধরে উল্লেখ করা হয় আর মূল প্রতিবেদনের লিংক দেওয়া হয়।

